স্মার্টফোনপ্রেমীদের জন্য সুখবর! আসছে Samsung Galaxy F36, যা আগামী ২৯ জুলাই, ২০২৫-এ বাজারে আসার কথা রয়েছে। আনুমানিক দাম ৳২৫,০০০ হলেও এই ফোনের ফিচারগুলো এক কথায় চমকপ্রদ। এতে থাকছে শক্তিশালী ৬GB RAM আর ১২৮GB স্টোরেজ, চোখ জুড়ানো ৬.৭ ইঞ্চি ফুল এইচডি+ ডিসপ্লে, এবং ত্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ (৫০+৮+২ মেগাপিক্সেল) যা নিখুঁত ছবি তোলার অভিজ্ঞতা দেবে। সেলফির জন্য আছে ১৩ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। এছাড়া ৫০০০mAh ব্যাটারি, ২৫W ফাস্ট চার্জিং, Wi-Fi 6, Bluetooth ৫.৩ এবং গরিলা গ্লাস—সব মিলিয়ে Samsung Galaxy F36 হতে যাচ্ছে দারুণ এক প্যাকেজ, যা নিত্যদিনের ব্যবহারকে করবে আরও স্মার্ট আর সহজ!
Read more – শাওমি পোকো এফ ৭ দাম কত বাংলাদেশে

Samsung Galaxy F36 Price in Bangladesh 2025
বাংলাদেশে Samsung Galaxy F36 এই মোবাইল ফোনটির দাম ২৫,০০০টাকা প্রত্যাশিত।
স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ৩৬ সংক্ষিপ্ত বিবরণ
২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাজারে আসতে চলেছে Samsung Galaxy F36, যা ইতিমধ্যেই স্মার্টফোনপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। আনুমানিক মূল্য ৳২৫,০০০ হলেও, এই ফোনের স্পেসিফিকেশন দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় এটি মিডরেঞ্জ বাজারে এক শক্ত প্রতিযোগী হতে চলেছে। এবার চলুন বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাক এই ফোনের মূল ফিচারগুলো।
ডিজাইন ও ডিসপ্লে:
Galaxy F36 এ থাকছে ৬.৭ ইঞ্চির বড় Super AMOLED ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন ১০৮০x২৩৪০ পিক্সেল (FHD+)। ১২০Hz রিফ্রেশ রেটের এই ডিসপ্লে স্মুদ স্ক্রলিং ও গেমিং এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করবে। ১৯.৫:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিও ও ৮৬% স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও থাকায় ফোনের ফ্রন্টটি বেশ আকর্ষণীয়। স্ক্রিনটি Corning Gorilla Glass Victus Plus দ্বারা সুরক্ষিত, যা ডেইলি ইউজে স্ক্র্যাচ ও ড্যামেজ প্রতিরোধে সহায়তা করবে। ফোনটির ডিজাইনও প্রিমিয়াম লুকে তৈরি হয়েছে; গ্লাস ফ্রন্ট, প্লাস্টিক ফ্রেম ও ইকো লেদার ফিনিশড সিলিকন পলিমার ব্যাক – যা হাতে ধরা বেশ আরামদায়ক। ফোনটি পাওয়া যাবে তিনটি কালারে: Luxe Violet, Coral Red, এবং Onyx Black।
পারফরম্যান্স ও হার্ডওয়্যার:
এই ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে Exynos 1380 চিপসেট, যা ৫nm প্রযুক্তিতে তৈরি এবং শক্তিশালী Octa-core CPU দ্বারা চালিত। প্রসেসরের কোরগুলো হলো ৪x২.৪ GHz Cortex-A78 ও ৪x২.০ GHz Cortex-A55। সাথে থাকছে Mali-G68 MP5 GPU, যা মিডরেঞ্জ গেমিং ও মাল্টিমিডিয়া এক্সপেরিয়েন্সকে করবে আরও উন্নত। ফোনটি চলবে Android v15 এর উপর ভিত্তি করে তৈরি One UI 7 ইন্টারফেসে, যা ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং স্মুথ এক্সপেরিয়েন্স দেবে। ৬GB RAM ও ১২৮GB ইন্টারনাল স্টোরেজ থাকায় মাল্টিটাস্কিং বা অ্যাপস ব্যবহারে কোনো ল্যাগ হবে না, এবং USB OTG সাপোর্ট থাকায় মেমোরি এক্সপ্যান্ড করা সহজ।
ক্যামেরা সেটআপ:
Galaxy F36 এর ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ বেশ ইম্প্রেসিভ:
- ৫০ MP প্রাইমারি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা (f/1.8)
- ৮ MP আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা (f/2.2)
- ২ MP ম্যাক্রো ক্যামেরা (f/2.4)
এই ক্যামেরা দিয়ে আপনি ৮১৫০ x ৬১৫০ পিক্সেল পর্যন্ত ইমেজ তুলতে পারবেন। রয়েছে HDR, ম্যাক্রো মোড, ডিজিটাল জুম, ফেস ডিটেকশন, টাচ টু ফোকাস সহ আরও নানা ফিচার। ভিডিও রেকর্ডিং সাপোর্ট করে 4K@30fps, 1080p@60fps এমনকি 720p@480fps সুপার স্লো-মোশনও। সেলফির জন্য আছে ১৩ MP ফ্রন্ট ক্যামেরা (f/2.2), যা 4K ভিডিও রেকর্ডিংও করতে পারে।
ব্যাটারি ও কানেক্টিভিটি:
ফোনটিতে ৫০০০ mAh শক্তিশালী লি-পলিমার ব্যাটারি রয়েছে, যা দিব্যি একদিনের বেশি চার্জ ধরে রাখবে। দ্রুত চার্জের জন্য ২৫W ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট এবং চার্জের জন্য রয়েছে USB Type-C 2.0। কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে থাকছে 5G, Wi-Fi 6, Bluetooth ৫.৩, NFC, এবং GPS+Glonass।
সিকিউরিটি ও সেন্সর:
Galaxy F36 এ সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, ফেস আনলক, লাইট সেন্সর, প্রক্সিমিটি সেন্সর, অ্যাক্সিলোমিটার, কম্পাস এবং গাইরোস্কোপও রয়েছে, যা স্মার্টফোন এক্সপেরিয়েন্সকে করবে আরও স্মার্ট ও নিরাপদ।
সব মিলিয়ে, Samsung Galaxy F36 একটি শক্তিশালী মিডরেঞ্জ প্যাকেজ, যা ডিজাইন, ডিসপ্লে, পারফরম্যান্স ও ক্যামেরার দিক থেকে দেবে প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স। যারা বাজেটে ভালো ফিচার চাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে এক চমৎকার পছন্দ।
Samsung Galaxy F36 এর স্পেসিফিকেশন
| ক্যাটেগরি | বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন |
|---|---|
| ব্র্যান্ড ও মডেল | Samsung Galaxy F36 |
| স্ট্যাটাস | আসন্ন (প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ: ২৯ জুলাই ২০২৫) |
| দাম (আনুমানিক) | ৳২৫,০০০ |
| অপারেটিং সিস্টেম | Android v15, One UI 7 |
| চিপসেট | Exynos 1380 (৫nm) |
| CPU | Octa-core (4×2.4 GHz Cortex-A78 & 4×2.0 GHz Cortex-A55) |
| GPU | Mali-G68 MP5 |
| RAM | ৬ GB |
| স্টোরেজ | ১২৮ GB (USB OTG সাপোর্ট) |
| ডিসপ্লে টাইপ | Super AMOLED |
| স্ক্রিন সাইজ | ৬.৭ ইঞ্চি (১৭.০২ সেমি) |
| রেজোলিউশন | 1080×2340 পিক্সেল (FHD+) |
| রিফ্রেশ রেট | ১২০ Hz |
| পিক্সেল ডেনসিটি | ৩৮৫ ppi |
| অ্যাসপেক্ট রেশিও | ১৯.৫:৯ |
| স্ক্রিন টু বডি রেশিও | ৮৬% |
| প্রোটেকশন | Corning Gorilla Glass Victus Plus |
| নচ | পাঞ্চ-হোল |
| প্রাইমারি ক্যামেরা | ট্রিপল: ৫০ MP (f/1.8, wide) + ৮ MP (f/2.2, ultra-wide) + ২ MP (f/2.4, macro) |
| ফিচারস | LED ফ্ল্যাশ, HDR, ম্যাক্রো মোড, ফেস ডিটেকশন, টাচ টু ফোকাস |
| ভিডিও রেকর্ডিং (রিয়ার) | 4K@30fps, 1080p@60fps, 720p@480fps (স্লো মোশন) |
| সেলফি ক্যামেরা | ১৩ MP (f/2.2, wide) |
| ভিডিও রেকর্ডিং (ফ্রন্ট) | 4K@30fps, 1080p@30fps |
| ব্যাটারি টাইপ | Li-Polymer (অপসারণযোগ্য নয়) |
| ক্ষমতা | ৫০০০ mAh |
| ফাস্ট চার্জিং | ২৫W ওয়্যার্ড |
| ইউএসবি টাইপ | USB Type-C 2.0 |
| নেটওয়ার্ক | ২জি, ৩জি, ৪জি, ৫জি |
| সিম | ডুয়াল সিম (ন্যানো+ন্যানো) |
| VoLTE | আছে |
| ওয়াই-ফাই | Wi-Fi 6 (802.11 a/b/g/n/ac/ax) ৫GHz, MIMO |
| ব্লুটুথ | v5.3 |
| জিপিএস | A-GPS, Glonass |
| NFC | আছে |
| ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর | সাইড-মাউন্টেড |
| ফেস আনলক | আছে |
| অন্যান্য সেন্সর | লাইট সেন্সর, প্রক্সিমিটি সেন্সর, অ্যাক্সিলোমিটার, কম্পাস, গাইরোস্কোপ |
| ডিজাইন | গ্লাস ফ্রন্ট (Gorilla Glass Victus+), প্লাস্টিক ফ্রেম, ইকো লেদার ব্যাক |
| কালারস | Luxe Violet, Coral Red, Onyx Black |
| ডাইমেনশন | উচ্চতা: ১৬৪.৪ মিমি, প্রস্থ: ৭৭.৯ মিমি, পুরুত্ব: ৭.৭ মিমি |
| ওজন | ১৯৭ গ্রাম |
| অডিও | লাউডস্পিকার, USB Type-C অডিও |
| মাল্টিমিডিয়া ভিডিও | 4K@30fps, 1080p@30/60fps, 720p@480fps, gyro-EIS |
| মেইড ইন | দক্ষিণ কোরিয়া |
ভালো দিক (Advantages)
🔹 প্রিমিয়াম ডিসপ্লে:
- ৬.৭ ইঞ্চির বড় Super AMOLED ডিসপ্লে
- হাই 120 Hz রিফ্রেশ রেট
- FHD+ রেজোলিউশন ও Corning Gorilla Glass Victus Plus এর মতো শক্তিশালী সুরক্ষা
🔹 শক্তিশালী পারফরম্যান্স:
- ৫nm প্রযুক্তিতে তৈরি Exynos 1380 চিপসেট
- Octa-core প্রসেসর ও Mali-G68 MP5 GPU
- ৬ GB RAM – ডেইলি টাস্ক ও মিডিয়াম-লেভেল গেমিং এর জন্য যথেষ্ট
🔹 ভালো ক্যামেরা সেটআপ:
- ৫০ MP প্রাইমারি + ৮ MP আল্ট্রা-ওয়াইড + ২ MP ম্যাক্রো ক্যামেরা
- 4K ভিডিও রেকর্ডিং সাপোর্ট (রিয়ার ও ফ্রন্ট দুটোতেই)
- সেলফির জন্য ১৩ MP ফ্রন্ট ক্যামেরা
🔹 ব্যাটারি ও চার্জিং:
- বড় ৫০০০ mAh ব্যাটারি
- ২৫W ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট
🔹 আধুনিক কানেক্টিভিটি ও ফিচার:
- Wi-Fi 6, Bluetooth v5.3, NFC
- ডুয়াল সিম, ৫জি সাপোর্ট
- সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও ফেস আনলক
- USB Type-C পোর্ট এবং OTG সাপোর্ট
🔹 ডিজাইন ও বিল্ড:
- গরিলা গ্লাসের সুরক্ষা, প্রিমিয়াম লুকের ইকো লেদার ফিনিশ
- তিনটি কালার অপশন (Luxe Violet, Coral Red, Onyx Black)
মন্দ দিক (Disadvantages)
🔹 মিড-রেঞ্জ চিপসেট:
- Exynos 1380 চিপসেট গেমিং বা হাই-এন্ড পারফরম্যান্সের জন্য খুবই শক্তিশালী নয়; হেভি গেমারদের জন্য সীমাবদ্ধতা হতে পারে
🔹 RAM ও স্টোরেজ ভেরিয়েন্ট সীমিত:
- শুধুমাত্র ৬GB RAM + ১২৮GB স্টোরেজ; হাই ইউজার বা স্টোরেজ হাংরিদের জন্য কম মনে হতে পারে
- কোনো অফিসিয়াল মাইক্রোএসডি স্লটের তথ্য নেই (আপনার তথ্য অনুযায়ী)
🔹 চার্জিং স্পিড:
- ২৫W ফাস্ট চার্জিং এখনকার বাজারে কিছুটা কম মনে হতে পারে, যেখানে প্রতিযোগীরা ৬৭W বা তার বেশি অফার করে
🔹 প্লাস্টিক ফ্রেম:
- প্রিমিয়াম লুক থাকলেও ফ্রেমটি এখনও প্লাস্টিকের, যা ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের মতো টেকসই নয়
🔹 অডিও জ্যাক নেই:
- শুধু USB Type-C অডিও, তাই যারা ৩.৫ মিমি হেডফোন ব্যবহার করেন তাদের জন্য অসুবিধা হতে পারে
মোবাইল ফোনটির সাথে কি কি থাকবে
বক্স কনটেন্ট (সম্ভাব্য):
✅ Samsung Galaxy F36 হ্যান্ডসেট
✅ USB Type-C চার্জিং কেবল
✅ ২৫W ওয়্যার্ড ফাস্ট চার্জার (বেশিরভাগ বাজারে ইনবক্সে থাকবে, কিছু অঞ্চলে আলাদা কিনতে হতে পারে)
✅ সিম ইজেক্টর পিন
✅ ইউজার ম্যানুয়াল / কুইক স্টার্ট গাইড
✅ ওয়ারেন্টি কার্ড
✅ সিলিকন ব্যাক কভার (কিছু বাজারে থাকতে পারে)
✅ স্ক্রিন প্রটেকশন ফিল্ম (ফ্যাক্টরিতে লাগানো অবস্থায় থাকতে পারে)
❌ কান ইয়ারফোন / হেডফোন সাধারণত এখনকার নতুন Samsung মিডরেঞ্জ ফোনের বক্সে থাকে না; আলাদাভাবে কিনতে হয়।
মোবাইল ফোনটি সাধারণ ইউজারদের জন্য কেমন হবে
Samsung Galaxy F36 সাধারণ ইউজারদের জন্য খুব ভালো হবে যারা চাইছেন–
- সুন্দর বড় ডিসপ্লে
- ভালো ব্যাটারি লাইফ
- প্রতিদিনের কাজের জন্য যথেষ্ট স্পিড
- ভাল মানের ক্যামেরা
- স্টাইলিশ ও মডার্ন ডিজাইন
যারা খুব হেভি গেমার বা এক্সট্রিম পারফরম্যান্স চান, তাদের জন্য হয়তো সীমাবদ্ধতা থাকবে। কিন্তু সাধারণ ইউজারদের জন্য দাম ও ফিচারের ভারসাম্যে এটি একেবারে শক্ত ও স্মার্ট একটি ফোন হতে পারে।
উপসংহার
সব দিক বিবেচনা করলে, Samsung Galaxy F36 সাধারণ ইউজারদের জন্য দারুণ এক ব্যালান্সড স্মার্টফোন হতে যাচ্ছে। এর বড় ও সুন্দর Super AMOLED ডিসপ্লে, শক্তিশালী ৫০ MP ক্যামেরা, এবং দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখা ৫০০০ mAh ব্যাটারি প্রতিদিনের কাজ, বিনোদন আর ছবি তোলার জন্য যথেষ্টই ভালো অভিজ্ঞতা দেবে।
যদিও মিড-রেঞ্জ চিপসেট ও সীমিত RAM-স্টোরেজ কিছু হেভি ইউজার বা গেমারের জন্য সীমাবদ্ধতা হতে পারে, তবে যারা সামাজিক যোগাযোগ, ভিডিও দেখা, কল, মেসেজিং এবং হালকা গেমিং করেন, তাদের জন্য এটি একেবারে উপযুক্ত। সেইসাথে প্রিমিয়াম ডিজাইন, ফাস্ট চার্জিং, ৫জি, Wi-Fi 6 ও One UI 7 ইন্টারফেস এই ফোনটিকে আরও ব্যবহারবান্ধব ও ফিউচারপ্রুফ করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে বলতে গেলে, যারা মিড বাজেটে একটি স্টাইলিশ, ফিচার-প্যাকড এবং ভরসাযোগ্য ফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য Samsung Galaxy F36 হতে পারে এক চমৎকার পছন্দ।