২০২৫ সালের ২৪ জুন বাজারে আসা নতুন Xiaomi Poco F7 ইতিমধ্যেই স্মার্টফোন প্রেমীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে। প্রায় ৬২,০০০ টাকা (অনানুষ্ঠানিক) মূল্যে এই ফোনটি ১২ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজসহ পাওয়া যাচ্ছে, যা পাওয়ার ইউজারদের জন্য দারুণ সুবিধা নিয়ে এসেছে। ফোনটিতে রয়েছে শক্তিশালী ৬৫০০ mAh ব্যাটারি, ৯০W ফাস্ট চার্জিং, উন্নত ৫০+৮ মেগাপিক্সেল ডুয়েল রিয়ার ক্যামেরা, এবং ২০ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। এছাড়াও, ৬.৮৩ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে, IP68 ওয়াটারপ্রুফ রেটিং, Wi-Fi 7 (5G) সাপোর্ট ও গরিলা গ্লাস ৭i এর মতো আধুনিক ফিচার এই ডিভাইসটিকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। সবমিলিয়ে Xiaomi Poco F7 শক্তি, পারফরম্যান্স এবং স্টাইলের এক অসাধারণ মেলবন্ধন।
Read More – Oppo A16 4 64 দাম কত বাংলাদেশে

শাওমি পোকো এফ ৭ দাম কত | Xiaomi poco f7 price in Bangladesh 2025
বর্তমানে বাংলাদেশে Xiaomi Poco F7 এই মোবাইল ফোনের দাম 62,000 টাকা আনঅফিসিয়াল 12GB+256GB ও 66,000 টাকা 12GB+512GB।
শাওমি পোকো এফ ৭ ওভারভিউ
২০২৫ সালের ২৪ জুন বাজারে আসা Xiaomi Poco F7 (512GB) স্মার্টফোনটি বর্তমানে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে এর অসাধারণ স্পেসিফিকেশন ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের কারণে। ফোনটি এসেছে HyperOS 2 ইউজার ইন্টারফেস সহ লেটেস্ট Android v15 অপারেটিং সিস্টেমে, যা স্মুথ এবং ফাস্ট পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। এতে রয়েছে Qualcomm SM8735 Snapdragon 8s Gen 4 চিপসেট, যা ৪ nm আর্কিটেকচারে তৈরি, ফলে পাওয়া যায় পাওয়ারফুল এবং এনার্জি এফিসিয়েন্ট পারফরম্যান্স। এর সাথে রয়েছে Octa-core CPU, যেখানে ১টি ৩.২১ GHz Cortex-X4, ৩টি ৩.০ GHz Cortex-A720, ২টি ২.৮ GHz Cortex-A720 এবং ২টি ২.০ GHz Cortex-A720 কোর রয়েছে। গ্রাফিক্সের জন্য আছে Adreno 825 GPU, যা হাই গ্রাফিক্স গেমিং বা মাল্টিমিডিয়া এক্সপেরিয়েন্সকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
ডিসপ্লের কথা বললে, এই ফোনটিতে আছে ৬.৮৩ ইঞ্চির বিশাল AMOLED ডিসপ্লে, যা ১২৮০x২৭৭২ পিক্সেল রেজোলিউশন ও ৪৪৭ ppi পিক্সেল ডেনসিটিতে দুর্দান্ত ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্স প্রদান করে। স্ক্রিনের রিফ্রেশ রেট ১২০ Hz, যার কারণে স্ক্রলিং এবং গেমিং হয় আরও স্মুথ। ব্রাইটনেসের দিক থেকেও ফোনটি অনন্য, কারণ এটি ৩২০০ নিট পর্যন্ত ব্রাইটনেস সাপোর্ট করে, ফলে রোদেও স্পষ্টভাবে স্ক্রিন দেখা যায়। ডিসপ্লেটি Corning Gorilla Glass 7i দ্বারা সুরক্ষিত, তাই স্ক্র্যাচ বা ছোটখাটো আঘাত থেকে ফোনটি সুরক্ষিত থাকে। এছাড়াও HDR 10+ সাপোর্ট থাকায় ভিডিও ও ছবি দেখা হয় আরও রিয়েলিস্টিক এবং ডিটেইলড।
ক্যামেরা সেকশনে আছে ডুয়েল সেটআপ, যেখানে প্রধান ক্যামেরা ৫০ MP ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স (f/1.5 অ্যাপারচার) এবং ৮ MP আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স রয়েছে। এতে আছে OIS, LED ফ্ল্যাশ এবং নানা ক্যামেরা ফিচার যেমন বোকেহ পোর্ট্রেট ভিডিও, স্লো মোশন, ভিডিও HDR, ফেস ডিটেকশন ইত্যাদি। ভিডিও রেকর্ডিং ৪কে রেজোলিউশনে ৬০ fps পর্যন্ত সম্ভব। সেলফির জন্য আছে ২০ MP ফ্রন্ট ক্যামেরা, যা ১৯২০x১০৮০ রেজোলিউশনে ভিডিও রেকর্ড করতে পারে।
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি অত্যন্ত প্রিমিয়াম। গ্লাস ফ্রন্ট ও গ্লাস ব্যাকের সাথে অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম ফোনটিকে দেয় এক লাক্সারি লুক। আইপি৬৮ রেটিং থাকায় এটি পানি ও ধুলাবালি প্রতিরোধে সক্ষম, ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে ফোনটি থাকবে আরও নিরাপদ।
৬৫০০ mAh বিশাল ব্যাটারি ও ৯০W ফাস্ট চার্জিং সুবিধা থাকায় খুব দ্রুত চার্জ হয়ে যায়, মাত্র ৩০ মিনিটেই ৮০% চার্জ পাওয়া যায়। রিভার্স চার্জিং সুবিধা (২২.৫W) থাকায় অন্য ডিভাইস চার্জও করা যায়।
ফোনটিতে আছে ১২ GB LPDDR5X RAM এবং ৫১২ GB UFS 4.1 ইন্টারনাল স্টোরেজ, যা আল্ট্রা-ফাস্ট ডেটা ট্রান্সফার ও স্মুথ মাল্টিটাস্কিং এর জন্য আদর্শ। কানেক্টিভিটির জন্য রয়েছে Wi-Fi 7, Bluetooth v6.0, NFC, USB OTG ও ইনফ্রারেড।
সিকিউরিটির জন্য রয়েছে অন-স্ক্রিন অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও ফেস আনলক।
সব মিলিয়ে, Xiaomi Poco F7 (512GB) হলো এক আধুনিক, পাওয়ারফুল ও স্টাইলিশ স্মার্টফোন, যা গেমিং, মাল্টিমিডিয়া এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য একেবারেই পারফেক্ট চয়েস।
Xiaomi Poco F7 (512GB) এর সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| মডেল | Xiaomi Poco F7 (512GB) |
| রিলিজ তারিখ | ২৪ জুন ২০২৫ |
| স্ট্যাটাস | উপলব্ধ |
| অপারেটিং সিস্টেম | Android v15, HyperOS 2 |
| চিপসেট | Qualcomm SM8735 Snapdragon 8s Gen 4 (4 nm) |
| CPU | অক্টা-কোর (১x৩.২১ GHz Cortex-X4 & ৩x৩.০ GHz Cortex-A720 & ২x২.৮ GHz Cortex-A720 & ২x২.০ GHz Cortex-A720) |
| GPU | Adreno 825 |
| র্যাম | ১২ জিবি LPDDR5X |
| ইন্টারনাল স্টোরেজ | ৫১২ জিবি UFS 4.1 |
| ডিসপ্লে টাইপ | AMOLED |
| স্ক্রিন সাইজ | ৬.৮৩ ইঞ্চি (১৭.৩৫ সেমি) |
| রেজোলিউশন | ১২৮০ x ২৭৭২ পিক্সেল (FHD+) |
| পিক্সেল ডেনসিটি | ৪৪৭ ppi |
| রিফ্রেশ রেট | ১২০ Hz |
| ব্রাইটনেস | সর্বোচ্চ ৩২০০ নিট |
| স্ক্রিন টু বডি রেশিও | ৯০.২% |
| প্রোটেকশন | Corning Gorilla Glass 7i |
| প্রধান ক্যামেরা | ডুয়েল: ৫০ MP (f/1.5, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল) + ৮ MP (f/2.2, আল্ট্রা-ওয়াইড) |
| সেলফি ক্যামেরা | ২০ MP (f/2.2, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল) |
| ভিডিও রেকর্ডিং | রিয়ার: 4K@৩০/৬০fps, 1080p@৩০/৬০/১২০/২৪০/৯৬০fps; ফ্রন্ট: 1080p@৩০fps |
| ব্যাটারি ক্যাপাসিটি | ৬৫০০ mAh (Li-Ion, নন-রিমুভেবল) |
| ফাস্ট চার্জিং | ৯০W (৩০ মিনিটে ৮০%) |
| রিভার্স চার্জিং | ২২.৫W |
| USB | USB Type-C 2.0, OTG সাপোর্ট |
| নেটওয়ার্ক | ২জি, ৩জি, ৪জি, ৫জি |
| সিম স্লট | ডুয়েল সিম (ন্যানো + ন্যানো) |
| ব্লুটুথ | v6.0 |
| Wi-Fi | Wi-Fi 7 (802.11 a/b/g/n/ac/be/ax) |
| NFC | আছে |
| ইনফ্রারেড | আছে |
| ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর | আছে (অন-স্ক্রিন, অপটিকাল) |
| ফেস আনলক | আছে |
| ডিজাইন ও বিল্ড | গ্লাস ফ্রন্ট (Gorilla Glass 7i), গ্লাস ব্যাক, অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম |
| ওয়াটারপ্রুফ | IP68 (১.৫ মিটার পর্যন্ত ৩০ মিনিট) |
| রঙ | ব্ল্যাক, হোয়াইট, সিলভার |
| ওজন | ২১৫.৭ গ্রাম |
| মাল্টিমিডিয়া | লাউডস্পিকার, USB Type-C অডিও জ্যাক, 4K ভিডিও, gyro-EIS |
| সেন্সর | লাইট সেন্সর, প্রক্সিমিটি সেন্সর, অ্যাকসেলারোমিটার, কম্পাস, গাইরোস্কোপ |
| উত্পাদন | চায়না |
Xiaomi Poco F7 (512GB) ফোনটির ভালো দিক এবং দুর্বল দিক
ভালো দিক (সুবিধা):
- শক্তিশালী প্রসেসর: Snapdragon 8s Gen 4 (4 nm) চিপসেট এবং Adreno 825 GPU – হাই পারফরম্যান্স গেমিং ও মাল্টিটাস্কিং সহজ করে।
- বড় RAM ও Storage: ১২ জিবি LPDDR5X RAM এবং দ্রুতগতির ৫১২ জিবি UFS 4.1 স্টোরেজ – ল্যাগ ছাড়া স্মুথ এক্সপেরিয়েন্স।
- উন্নত ডিসপ্লে: ৬.৮৩ ইঞ্চি FHD+ AMOLED স্ক্রিন, ১২০Hz রিফ্রেশ রেট, ৩২০০ নিট ব্রাইটনেস এবং HDR10+ সাপোর্ট – ভিডিও ও গেম দেখতে দারুণ।
- ভাল ব্যাটারি লাইফ: ৬৫০০ mAh বিশাল ব্যাটারি – সহজেই একদিন বা তার বেশি চলে।
- ফাস্ট চার্জিং: ৯০W ফাস্ট চার্জিং (৩০ মিনিটে প্রায় ৮০%) এবং ২২.৫W রিভার্স চার্জিং সুবিধা।
- প্রিমিয়াম ডিজাইন: গ্লাস ফ্রন্ট ও ব্যাক, অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম, Gorilla Glass 7i প্রোটেকশন – দেখতে সুন্দর ও মজবুত।
- ভালো ক্যামেরা: ৫০+৮ MP রিয়ার ক্যামেরা OIS সহ এবং ২০ MP সেলফি ক্যামেরা – ছবি ও ভিডিও তুলতে ভাল মানের।
- IP68 রেটিং: পানি ও ধুলো প্রতিরোধী, দৈনন্দিন ব্যবহারে নিরাপদ।
- নতুন কানেক্টিভিটি: Wi-Fi 7, Bluetooth v6.0, NFC, ইনফ্রারেড – আপডেটেড টেকনোলজি সাপোর্ট।
- অন-স্ক্রিন ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস আনলক: দ্রুত ও সহজ আনলকিং সুবিধা।
দুর্বল দিক (অসুবিধা):
- ওজন তুলনামূলক বেশি: ২১৫.৭ গ্রাম – এক হাতে বেশি সময় ব্যবহার করলে ভারি মনে হতে পারে।
- স্ক্রিন রেজোলিউশন FHD+: ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের ফোন হলেও QHD বা 2K রেজোলিউশন নেই, যা অনেকেই আশা করতে পারে।
- টেলিফটো লেন্স নেই: জুম বা পোর্ট্রেট ফটোর জন্য আলাদা টেলিফটো ক্যামেরা না থাকায় সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
- অডিও জ্যাক নেই: আলাদা ৩.৫মিমি হেডফোন জ্যাক না থাকায় শুধু USB Type-C অডিও ব্যবহার করতে হবে।
- ওয়্যারলেস চার্জিং নেই: এত প্রিমিয়াম ফিচারের ফোনে এই ফিচারটি না থাকা কিছু ব্যবহারকারীর জন্য হতাশাজনক হতে পারে।
- বাজারে দাম: আনঅফিশিয়াল বাজারমূল্য তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে।
মোবাইল ফোনের সাথে কি কি থাকবে
বক্সের ভিতরে যা থাকবে:
- ✅ Xiaomi Poco F7 (512GB) হ্যান্ডসেট – মূল ফোন
- ✅ ৯০W ফাস্ট চার্জার অ্যাডাপ্টার – দ্রুত চার্জিংয়ের জন্য
- ✅ USB Type-C চার্জিং এবং ডেটা কেবল – চার্জ ও ফাইল ট্রান্সফারের জন্য
- ✅ সিম ইজেক্টর পিন – সিম কার্ড ঢোকাতে বা বের করতে
- ✅ সিলিকন বা TPU ব্যাক কভার – ফোনকে প্রাথমিকভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য
- ✅ স্ক্রিন প্রটেক্টর (প্রী-ইন্সটল্ড বা আলাদা) – ডিসপ্লে সুরক্ষার জন্য
- ✅ ইউজার ম্যানুয়াল / কুইক স্টার্ট গাইড – সেটআপ এবং ব্যবহার নির্দেশনা
- ✅ ওয়ারেন্টি কার্ড – কোম্পানির ওয়ারেন্টি নথি
⚠️ দ্রষ্টব্য:
- বেশিরভাগ নতুন Xiaomi ফোনে ৩.৫ মিমি ইয়ারফোন বা হেডফোন বক্সে দেয় না।
- বাজার বা রিটেইলারের উপর ভিত্তি করে কনটেন্ট ভিন্ন হতে পারে (বিশেষ করে আনঅফিশিয়াল সেটে)।
মোবাইল ফোনটি ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা
হাতে নেওয়ার পরেই ফোনটা বেশ প্রিমিয়াম মনে হবে। গ্লাস ফ্রন্ট আর গ্লাস ব্যাক, সাথে অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের কারণে দেখতে ও ছুঁতে খুবই ভালো লাগবে। ওজন একটু বেশি মনে হলেও, বড় স্ক্রিন ও শক্ত ব্যাটারির জন্য সেটা মেনে নেওয়া যায়।
৬.৮৩ ইঞ্চির বড় AMOLED ডিসপ্লেতে YouTube, Netflix বা ফেসবুক দেখা দারুণ লাগবে। ব্রাইটনেস অনেক (৩২০০ নিট), তাই রোদে বাইরে থাকলেও স্ক্রিন স্পষ্ট দেখা যায়। ১২০ Hz রিফ্রেশ রেট স্ক্রলিং বা গেম খেলায় চোখে পড়ার মতো স্মুথনেস দেয় – এটা সত্যিই আলাদা ফিল তৈরি করে।
৫০ MP প্রধান ক্যামেরায় দিন-রাতে ছবি তোলা বেশ ভালো হবে – কালার ও শার্পনেস উভয়ই সুন্দর। OIS থাকার কারণে ভিডিও রেকর্ডিং বা চলতি গাড়ি থেকে ছবি তুললেও ব্লার কম হবে। ফ্রন্টের ২০ MP ক্যামেরা সেলফি আর ভিডিও কলে পরিষ্কার ছবি দেবে। তবে, অনেক জুম করতে গেলে টেলিফটো লেন্সের অভাব টের পাওয়া যেতে পারে।
৬৫০০ mAh বিশাল ব্যাটারি থাকায় একদিন তো সহজেই চলে যাবে, মাঝারি ইউজারে একদিনের বেশি চলার সম্ভাবনাও আছে। ফাস্ট চার্জিং আসলেই অনেক সুবিধা – হঠাৎ দরকারে মাত্র ৩০ মিনিট চার্জ করেই প্রায় ৮০% চার্জ পেয়ে যাবেন।
সোশ্যাল মিডিয়া, হালকা গেম, ভিডিও দেখা, একসাথে অনেক অ্যাপ চালানো – সবই হবে ল্যাগ ছাড়া। Snapdragon 8s Gen 4 প্রসেসর আর ১২GB RAM দারুণ পারফর্ম করে। HyperOS 2 ইন্টারফেসও ক্লিন ও ইউজার-ফ্রেন্ডলি মনে হবে।
যারা ফ্রি ফায়ার, পাবজি বা কল অব ডিউটি খেলেন, তাদের জন্যও এই ফোন ভালো। হাই সেটিংসে স্মুথ চলবে এবং গরমও তুলনামূলক কম হবে। বড় ডিসপ্লে গেমের মজা আরও বাড়িয়ে দেবে।
অন-স্ক্রিন ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর আর ফেস আনলক দুটিই দ্রুত কাজ করে, তাই আনলক করা সহজ ও মজার অভিজ্ঞতা হবে।
যা কিছু কম ভালো লাগতে পারে:
- ফোনের ওজন একটু বেশি, লম্বা সময় এক হাতে ধরে রাখা কিছুটা কষ্টকর হতে পারে।
- ওয়্যারলেস চার্জিং নেই, যদিও ফাস্ট চার্জিং আছে।
- টেলিফটো লেন্সের অভাব, যারা পোর্ট্রেট বা জুম ছবি বেশি তুলতে চান তাদের জন্য সীমাবদ্ধতা।
উপসংহার
সব দিক বিবেচনায়, Xiaomi Poco F7 (512GB) একেবারে নতুন প্রজন্মের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা একটি প্রিমিয়াম স্মার্টফোন। শক্তিশালী Snapdragon 8s Gen 4 প্রসেসর, ১২ জিবি র্যাম, বড় ৬.৮৩ ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে এবং ৬৫০০ mAh ব্যাটারি—সব মিলিয়ে এটি শুধু দৈনন্দিন ব্যবহার নয়, বরং হেভি গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং ও মাল্টিটাস্কিং এর জন্যও সহজেই উপযোগী।
ফোনটির ডিজাইন প্রিমিয়াম, IP68 রেটিং থাকার কারণে এটি পানি ও ধুলা প্রতিরোধী, যা দৈনন্দিন ব্যবহারকে আরও নিশ্চিন্ত করে। ৫০MP প্রধান ক্যামেরা ও ২০MP সেলফি ক্যামেরা সাধারণ ছবি ও ভিডিওর চাহিদা পূরণে সক্ষম। সেই সঙ্গে ৯০W ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি ব্যাটারি নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
তবে ফোনের কিছু সীমাবদ্ধতা যেমন ওজন একটু বেশি, ওয়্যারলেস চার্জিং এর অভাব এবং টেলিফটো লেন্স না থাকা—সেগুলো কিছু ব্যবহারকারীর কাছে খেয়াল করার মতো হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যারা একটি শক্তিশালী, স্টাইলিশ এবং লং-লাস্টিং স্মার্টফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য Xiaomi Poco F7 (512GB) নিঃসন্দেহে একটি দারুণ পছন্দ হতে পারে। এটি দামে এবং ফিচারে ব্যালান্স রেখে বাস্তব জীবনে ব্যবহারকারীদের সন্তুষ্টি এনে দেবে, যা এক কথায় বলা যায়—প্রিমিয়াম ফিলের সাথে পাওয়ারফুল পারফরম্যান্সের মিশেল।